িশশুেদর জন্য মানসম্মত িশক্ষা িনি ত করা যমন বাংলােদেশর নিতক দািয়ত্ব, তমিন এটি একটি জরুির
অথৈনিতক প্রেয়াজনও। বতমােন দশটি একটি “জনসংখ্যাগত লভ্যাংশ” উপেভাগ করেছ—অথাৎ িনভরশীল
জনেগাষ্ঠীর তুলনায় কমক্ষম জনেগাষ্ঠীর সংখ্যা বিশ—যা অথৈনিতক প্রবৃিদ্ধর জন্য একটি সুেযােগর জানালা
তির কেরেছ। িকন্তু প্রজনন হার ও মৃতু ্যহার কেম আসায় এই জানালাটি দ্রুত বন্ধ হেত চেলেছ। িশক্ষা সংস্কারেক
যিদ এখনই কন্দ্রস্থেল না আনা হয়, তেব এক দশেকর মেধ্যই বাংলােদশ বহু বছর ধের এক মারাত্মকভােব
অিশিক্ষত কমশিক্তর বাঝা বহন করেত বাধ্য হেব।
গত সপ্তােহ িশক্ষা সংস্কার িনেয় একটি প্রিতেবদন প্রকািশত হেয়েছ, যা বাস্তবািয়ত হেল বাংলােদেশর ভিবষ্যৎ
আমূল বদেল িদেত পাের। আেবদ চৗধুরীর সভাপিতেত্ব এবং িশক্ষা উপেদষ্টার উেদ্যােগ গঠিত এই খসড়া
কিমটিেত িছেলন মুস্তাক খান, এরুম মািরয়াম, সািবনা ইয়াসিমন, অনন্ত নীলীমসহ আরও অেনেক।
প
্
রিতেবদনটি িনেয় একটি চমৎকার উপস্থাপনা দওয়া হেয়িছল। িকন্তু পরবত আেলাচনায় প্রায় সবাই—প্রায়
৫০ জন অংশগ্রহণকারী—পাঠ্যক্রেমর িবষয়বস্তু, িশক্ষকেদর কমপিরিস্থিত, পাঠ্যবই ইত্যািদ িনেয় আেলাচনা
কেরন, যন প্রিতেবদেনর আসল গুরুত্বটাই ধরেত পােরনিন। আিম ধের িনি , সরকার ও নাগিরক সমােজর
ওই অংশগ্রহণকারীরা আেগভােগ প্রিতেবদনটি পড়ার সুেযাগ পানিন, যমনটি আিম পেয়িছলাম। আগাম না
পড়েল আিমও হয়েতা পুেরাপুির বুঝেত পারতাম না য পাঠ্যক্রেমর িবষয়বস্তু আেদৗ এই কিমটির কােজর মূল
ফাকাস নয়।
এখােন একটি উপমা এই প্রিতেবদেনর িবষয়বস্তু কী এবং কী নয়—তা বাঝােত সহায়ক হেত পাের।
একটি গািড় বাছাই করার সময় আমরা তার ইিঞ্জেনর ক্ষমতা, রং, অেটােমটিক না ম্যানুয়াল িগয়ার, পাওয়ার
িস্টয়ািরং আেছ িক না, সডান না এসইউিভ—এসব দিখ। যিদ আমরা িশক্ষােক জীবেনর যাত্রার শুরুেত
অিজত একটি গািড়র সে তুলনা কির, তেব এই উপমাটি যথাথ। কারণ িশক্ষা িনধারণ কের আমরা কত দ্রুত
ও কত দূর যেত পারব এবং কঠিন পথ পািড় িদেত আমােদর কতটা সক্ষমতা থাকেব। গািড়র এসব বিশষ্ট্যেক
পাঠ্যক্রেমর িবষয়বস্তু, িণর আকার বা িশক্ষক প্রিশক্ষেণর সে তুলনা করা যায়— যগুেলা িনেয়ই উপিস্থতরা
আেলাচনা করেত চেয়িছেলন।
িকন্তু প্রিতেবদনটি গািড়র বিশষ্ট্য িনেয় নয়; এটি মূলত কীভােব একটি ভােলা গািড় উৎপাদন কারখানা গেড়
তালা যায়—তা িনেয়।
এই দৃিষ্টভি গ্রহেণর মাধ্যেম কিমটি িশক্ষা ব্যবস্থার মৗিলক ঘাটিতগুেলা এবং সগুেলা কন টিেক আেছ—তা
িচি ত করেত পেরেছ। আরও গুরুত্বপূণ হেলা, প্রিতেবদনটি দিখেয়েছ কীভােব যেকােনা সংস্কার প্রস্তাব
মূল্যায়ন করেত হেব, কীভােব তা বাস্তবায়ন করেত হেব এবং কাযকর হেল কীভােব সটিেক টকসই করেত
হেব।
এই পদ্ধিতর িভিত্ত শিক্তশালী “িসেস্টম িবে ষণ” তে প্রািথত। নীিতগত প্রস্তাবনার তািলকা দওয়ার বদেল
কিমটি িশক্ষা শাসনব্যবস্থার কাঠােমাগত ব্যথতা িবে ষণ কেরেছ। নতুন পাঠ্যক্রেমর প্রিতটি খু ঁটিনাটি ব্যাখ্যা
করার পিরবেত তারা দিখেয়েছ, কীভােব ব্যবস্থার ভতেরর ভুল প্রেণাদনা বা সংেকত এবং সগুেলার
প
্
রিতিক্রয়ায় সংস্কার বারবার বাধাগ্রস্ত হেয়েছ।
এই ধারণাটি বাঝােত পরীক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ নওয়া যেত পাের। প্রিতেবদনটি দিখেয়েছ, পরীক্ষা পদ্ধিত
দক্ষতা বা পারদিশতার বদেল কবল পাঠ্যসূিচ শষ করােক অগ্রািধকার দওয়ায় এক ধরেনর িবপযয়কর
ব্যথতা ঘেটেছ। স্বাধীন মূল্যায়েন দখা যাে , পরীক্ষার ফলাফল ও প্রকৃত দক্ষতার মেধ্য ফারাক ক্রেমই বাড়েছ।
ভােলা নম্বর আর দক্ষতার প্রতীক নয়। িশক্ষাথরা প্রেয়াজনীয় দক্ষতা অজন না কেরই এক িণ থেক আেরক
িণেত উত্তীণ হে ।
এ ধরেনর িসেস্টম ব্যথতায় লাভ বা অেযাগ্যতাই মূল সমস্যা নয়। িশক্ষকরা আসেল ঠিক সটাই করেছন, যা
িসেস্টেমর সংেকত তােদর করেত বলেছ। পরীক্ষার ফলই হেলা সংেকত, আর িশক্ষেকর পাঠদান পদ্ধিত হেলা
তার প্রিতিক্রয়া। ফেল িশক্ষকরা দক্ষতা গেড় তালার বদেল কবল পাঠ্যসূিচ শষ করােতই মেনােযাগ দন।
বাস্তেব, শাসনব্যবস্থার প্রিতটি স্তেরই প্রায়শই মান নািমেয় আনার প্রবণতা দখা গেছ, যন দক্ষতা অজেনর
একটি ভ্রান্ত ধারণা বজায় রাখা যায়।
ভাষা ও গিণেতর মেতা প্রাথিমক দক্ষতার পারদিশতার বদেল বাংলােদেশর মাধ্যিমক িশক্ষা ব্যবস্থা এমন
িবষয়েক অগ্রািধকার িদেয়েছ, যা দক্ষতার পিরপন্থী— যমন মুখস্থিবদ্যা। মানবজািতর ইিতহােস কখেনাই মুখস্থ
করা দক্ষতা অজেনর উপায় িছল না।
অসংখ্য পেক্ষর অসামঞ্জস্যপূণ সংেযাজেন স্ফীত হেয় ওঠা পাঠ্যক্রম দক্ষতার ওপর মেনােযাগ নষ্ট কেরেছ। তেব
সমস্যাটি শুধু অিতিরক্ত িবস্তৃত পাঠ্যক্রম নয়; বরং “প্রত্যািশত শখার ফল, উপলব্ধ িশক্ষাদােনর সময়, পাঠ্যক্রম
ও পাঠ্যবইেয় িনিহত গিত-ধারণা এবং দক্ষতার বদেল কভােরজেক অগ্রািধকার দওয়া মূল্যায়ন সংেকেতর মেধ্য
অসামঞ্জস্য।”
কিমটি তােদর অবস্থান িনেয়েছ গেবষণালব্ধ একটি শিক্তশালী প্রবণতার ওপর, যা মাধ্যিমক স্তের িবস্তার নয়,
গভীরতা ও দক্ষতােক অগ্রািধকার দয়। এই দৃিষ্টভি বাংলােদেশর িশক্ষা ব্যবস্থায় প্রিতফিলত হেতই হেব।
সংস্কার কষ্টকর হেব। িকছু সংস্কার ধােপ ধােপ আনা যেত পাের, িকন্তু কিমটি জার িদেয়েছ য িকছু সংস্কার
দ
্
র
ুত বাস্তবায়ন করা জরুির। যখন পরীক্ষা সিত্যকার অেথ িশক্ষাথর দক্ষতা যাচাই করেব, তখন নম্বর পুেরা
িশক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূণ সংেকত িহেসেব কাজ করেব। খারাপ ফলাফল মােন পাঠ্যক্রম, পাঠদান ও
পাঠ্যবইেয় সংস্কােরর দািব।
কিমটি কেয়কটি “অ-আেলাচনােযাগ্য” শত িনধারণ কেরেছ, যা সব সংস্কাের প্রাধান্য পােব। যমন—নতুন
উেদ্যাগ কবল তখনই নওয়া যােব, যখন তা িবদ্যমান কাযক্রমেক “প্রিতস্থাপন, একীভূত বা অবসান” করেব।
উেদ্যােগর ওপর উেদ্যাগ চাপােনার এই অন্তহীন প্রবণতা বন্ধ করেত হেব।
সবেচেয় গুরুত্বপূণ অ-আেলাচনােযাগ্য শতগুেলার একটি হেলা—প্রিতটি িসেস্টম সংেকেতর দািয়ত্ব কার, তা আেগ
থেকই সবার জানা থাকেত হেব। দািয়ত্ব িনিদষ্ট না থাকেল, ভারী ও দীঘস্থায়ী পাইলট প্রকেল্পর িবস্তার চলেতই
থাকেব।
পাঠ্যক্রেমর িবষয়বস্তু িনধারেণ সাধারণত সুপািরশ না করেলও, কিমটি দুটি িবষয়েক যেকােনা পাঠ্যক্রেমর
জন্য অপিরহায িহেসেব িচি ত কেরেছ। (আমার মেত, একটি গুরুত্বপূণ িবষয় বাদ পেড়েছ— স কথায়
আসিছ।) প্রথমটি বাংলা ভাষা িশক্ষা, যার গুরুত্ব স্বতঃিসদ্ধ। ি তীয়টি গিণত।
গিণত িশক্ষা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধের মানসম্মত িশক্ষার কেন্দ্র রেয়েছ, এমনিক যখন িশক্ষা কবল
অিভজাতেদর জন্য সীমাবদ্ধ িছল। আজ সারা িবেশ্ব মাধ্যিমক িশক্ষাথরা ি ঘাত সমীকরণ ও িত্রেকাণিমিতক সূত্র
শেখ, যিদও তােদর প্রায় কউই স্কুল ছাড়ার পর আর সগুেলার কােছ িফের যােব না। তবু এতিদন ধের এত
সমােজ এত িশশুেদর এসব পড়েত বাধ্য করার একটি ভােলা কারণ আেছ।
আিম প্রায়ই (লজ্জাজনকভােব) বলেত ভােলাবািস—গিণত হেলা তেথ্যর ভার ছাড়াই িচন্তা করার িশক্ষা।
ইংল্যােন্ডর এক আিপল আদালেতর িবচারক আমােক এ কথা বেলিছেলন, জেন য আিমও তার মেতা স্নাতেক
গিণত পেড়িছ। যুিক্ত শখােনার জন্য গিণেতর মেতা কাযকর মাধ্যম আর নই। অন্য সব িবষেয় যুিক্ত শুরু
করার আেগ অেনক তথ্য মুখস্থ করেত হয়।
এখােনই মুখস্থিবদ্যার প্রবণতা সবেচেয় ক্ষিতকর। যিদ পরীক্ষা কবল ি ঘাত সূত্র মুখস্থ জােন িক না তা যাচাই
কের, তেব মুখস্থ করা িশক্ষাথ পুরস্কৃত হয়। িকন্তু স িশক্ষাথ আসেল িকছুই অজন কেরিন, যা যুিক্ত কের সূত্রটি
導 করেত শখা িশক্ষাথ অজন কেরেছ। ি তীয় িশক্ষাথ িচন্তা করেত িশেখেছ, এমনিক ভিবষ্যেত ি ঘাত
সমীকরণ ভু েল গেলও।
এবার আিম সই িবষেয় আসিছ, যটিেক কিমটি অগ্রািধকার িহেসেব িচি ত কেরিন।
কেয়ক বছর আেগ আিম আমস্টারডাম িগেয়িছলাম। িবমানবন্দের নেম ট্যাি েত উেঠ চালকেক বললাম,
“দুঃিখত, আিম ডাচ বলেত পাির না, আপিন িক ইংেরিজ বেলন?”
চালক আমার িদেক একরাশ িবরিক্ত িনেয় তািকেয় তারপর উত্তর িদেলন।
পের আিম ঘটনাটি বন্ধু েদর বলেল তারা একটি চমৎকার ব্যাখ্যা িদল। চালকেক ইংেরিজ জােনন িক না িজেজ্ঞস
করা মােন নািক তােক িনরক্ষর বা িনচু িণর বেল ইি ত করা। কারণ প্রায় সবাই ইংেরিজ বলেত পাের।
ি
তীয় িবশ্বযুেদ্ধর পর, জামান অিধকৃত নদারল্যান্ডস িসদ্ধান্ত িনেয়িছল—চারপােশ িভন্ন ভাষাভাষী দশ
থাকায়—িশশুরা অন্তত আরও দুটি ভাষা িশখেব। উত্তর ইউেরােপর অিধকাংশ দেশই একই িচত্র।
গেবষণা স্পষ্টভােব দখায়, অল্প বয়েস ি তীয় ভাষা শখার জ্ঞানীয় উপকািরতা আেছ, যা কবল ভাষা শখার
মেধ্যই সীমাবদ্ধ নয়; এমনিক স্থািনক যুিক্তেবাধও উন্নত হয়।
অথৈনিতক সুিবধাটিও পিরষ্কার। একটি ভাষা বিশ্বক ব্যবসার মুদ্রা, আর সই ভাষাটিই—সবেচেয়
বিশ—মানবজািতর সামিষ্টক জ্ঞােনর ভাণ্ডার। আধুিনক অথনীিত মূলত সই জ্ঞােনর ওপরই দাঁিড়েয়।
আমার ধারণা, ভাষাগত জাতীয়তাবাদ উসেক দওয়ার আশঙ্কায় এবং পুেরা প্রিতেবদনটির গ্রহণেযাগ্যতা নষ্ট
হেত পাের ভেব কিমটি ইংেরিজেক অগ্রািধকার িহেসেব উে খ করা থেক িবরত থেকেছ। ভাষা িনেয়
আেলাচনায় ইিতহাসগতভােব— বাধ্য হেলও সহায়ক নয়—প্রবল আেবগ জিড়েয় যায়।
অথ ও সুেযােগর জাের বাংলােদেশর অিভজাত িণ রাে র মাধ্যিমক িশক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থেক
িনেজেদর মুক্ত কের িনেয়েছ। যেহতু নীিতিনধারেণ মূলত এই িণরাই প্রভাবশালী, তাই বহু বছর ধের সরকাির
িশক্ষার সংস্কার িপিছেয় পেড়েছ।
এই অসাধারণ প্রিতেবদেনর ভিবষ্যৎ িনভর করেছ পরবত সরকার, নাগিরক সমাজ ও জনগেণর ওপর।
সরকার বা নাগিরক সমােজর ওপর ভরসা রাখেত হেল আশাবাদী হওয়া কঠিন। তেব সামান্য আশা এই য,
জুলাইেয়র গণঅভু ্যত্থান দিখেয়েছ—মানুেষর হােত এখনও িকছু ক্ষমতা রেয়েছ।

