পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশ

পরিবেশ বিপর্যয় krishan foundation

0
944

krishan foundation আধুনিকতার শীর্ষে চলে যাওয়ায় কিংবা প্রযুক্তির উৎকর্ষে পৌঁছে যাওয়ার পর উন্নত দেশে এখন সবাই হঠাৎ পৃথিবীকে স্নেহ করতে শুরু করেছে।
তারা এখন ভাবছে কীভাবে পৃথিবীর মাটিকে বাঁচানো যায়, কীভাবে পানিকে বিশুদ্ধ করা যায়, কীভাবে বায়ুকে দূষণ থেকে রক্ষা করা যায়…।
যারা নিজেরা শিল্পোন্নত হওয়ার নেশায় বায়ুকে দুষিত করেছে, যারা নিজেদের উন্নয়ন করতে গিয়ে লাখ লাখ প্লাস্টিক মাটিতে মিশিয়েছে, যারা মহাবিশ্ব জয় করতে গিয়ে পৃথিবীর আবহাওয়া নষ্ট করেছে, শেই উন্নত দেশগুলো পৃথিবীকে নতুন করে স্নেহ করতে শুরু করেছে।
পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ উন্নত মানুষগুলো ভুলে যাচ্ছে তারা ব্যতীত পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ এখনো নিজের এবং পরিবারের একবেলা আহারের জন্যে অন্যের সাহায্য এবং আকাশের দিকে চেয়ে বসে থাকে। krishan foundation
উন্নত বিশ্ব যখন বলছে আমাদের মাটিকে বাঁচাতে হবে যারা নিজেরাই এটিকে নষ্ট করছে। অন্যদিকে পৃথিবীর আরেক প্রান্তের মানুষ জানেই না কেন তার মাটিতে খরা ভর করেছে।
উন্নত বিশ্বের মানুষ এখন ECO FRIENDLY শব্দে প্রভাবিত, যারা নিজেদের জীবনচর্চা (lifestyle) থেকে শুরু করে সবকিছুতে পরিবেশবান্ধব/ Eco friendly হতে চায়, যেখানে তারা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের সাথেই এখনো বন্ধুসুলভ হতে পারে নি।
তবে হ্যাঁ, তারা যদি ভাবে উন্নত দুটি মহাদেশ বা গুটি কয়েক পরমানু সমৃদ্ধ দেশ ECO FRIENDLY হয়ে গেলে কিংবা পরিবেশ বান্ধব ফাঁকা বুলি আওড়ালে দায় এড়াতে পারবেন কিংবা আসন্ন পরিবেশের মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে পারেন,
তাদের জন্য কবি ভারতচন্দ্র রায় গুনাকরের কবিতায় লাইনটা বলতে হয়
“নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায় ?“ krishan foundation
বাংলাদেশ আয়তনে ছোট এবং জনবহুল দেশ তা আমরা মোটামুটি সবাই জানি, দক্ষিণ এশিয়ার বঙ্গোপসাগর ঘেষা এই দেশটির দক্ষিণের কয়েকটি জেলা সাতক্ষীরা, বরিশাল, খুলনায় হঠাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে গত বেশ কয়েক বছর ধরে, কিন্তু কেন?
পৃথিবীর ৮ম জনসংখ্যাবহুল এদেশে সমুদ্রের তীরের কয়েকটি জেলার বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া কোনো কাকতালীয় ঘটনা কী?
কয়েকমাস আগে একজন স্থানীয় সাংবাদিকের প্রতিবেদনে উঠে আসে ঐ অঞ্চলের মানুষের জীবন হঠাৎ পাল্টে যাওয়ার কারন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রধান আয়ের উৎস সরকারি সহায়তা! হ্যাঁ, সরকারি সহায়তা। একটি অঞ্চলের মানুষের প্রধান উৎস সরকার হতে প্রাপ্ত সহায়তা। কিন্তু কেন?
একটি অঞ্চলের প্রতিটি ঘরেই প্রায় অসুস্থ শিশুর জন্ম হচ্ছে, কিন্তু কেন?
তাদের অনেকেই দেখা যায় বেড়ি বাধের উপর নিজেদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন তাবু পেতে, কিন্তু কেন?
আরও অনেক প্রশ্ন করা যাবে। প্রশ্ন বাড়িয়ে আর জটিল করছি না। সামনে আসা প্রশ্নের জবাব খুঁজি বরং!
সরকারি সহায়তা কীভাবে একটি অঞ্চলের মানুষের আয়ের উৎস হতে পারে?
€ সাতক্ষীরা এবং আশেপাশের জেলার মানুষ কয়েক বছর আগেও যাদের আয়ের উৎস ছিল কৃষিকাজ এবং মৎসচাষ ।
সেই লোকালয়ে এখন সারা বছর সমুদ্রের নোনাপানির অভিশাপ। হয় না কোনো ফসল। নোনাপানি আর কাদায় একাকার পুরো এলাকা।
কিছু মানুষ তবুও চেষ্টা করে আয় করার। সারাদিন শামুক কুড়িয়ে তা বিক্রি করে কেজি প্রতি ৩ টাকা। আর সারাদিনে কুড়িয়ে পায় ৩-৫ কেজি শামুক। দিনে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা আয়ে কোনো কিছুতেই হিসেব মিলে না। তাই বসে থাকতে হয় কোনো এক জনপ্রতিনিধি আসবেন সহায়তা নিয়ে এই আশায়।প্রতি ঘরে অসুস্থ কিংবা বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম ও নয় কাকতালীয়
€ একজন সন্তানসম্ভবা নারীকে ১০ কি:মি: কাঁদা পানি ডিঙ্গিয়ে যেতে হয় চিকিৎসা সেবা পেতে। যা বাস্তবে অসম্ভব বললেই চলে। গর্ভকালীন সময়ে নারীর অপর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবাই একটা প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে।

এখন নিশ্চয় অনেক টুকু পরিস্কার কেনো সেসব অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে। না! জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে না, এসব অঞ্চলের মানুষ অন্যত্র চলে যাছে। এত ত্যাগ এত কষ্ট… কিন্তু তারা বেশিরভাগ মানুষই জানে না কেনো তাদের পরিচিত পরিবেশ তাদের সাথে এমন বিরূপ আচরণ করছে। তারা তো এই পরিবেশের সাথে মিশেই ছিল।
তারা জানে না, কিন্তু আমরা জানি। আমরা যে মানুষ/ দেশগুলো পরিবেশ প্রীতি বাড়ানোর কথা বলছি তারা জানি কার ভুলে পরিবেশ এত ক্ষীপ্ত !!

বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা অস্বাভাবিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ধারনা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা না কমলে বাংলাদেশের ১৭% জমি সমুদ্রে নিমজ্জিত হবে। বাংলাদেশ ৫০ বছর আগে ৩০ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এ ভূখণ্ড অর্জন করেছে। অন্যের উচ্চাকাঙ্ক্ষা কিংবা ভুলের জন্য নিজের প্রিয় দেশ খতিগ্রস্থ হবে তা কোনো ভাবেই কাম্য নয়।
দেশকে বৈশ্বিক এ দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করতে ২০১৮ সালে নেদারল্যান্ডদের অনুসরণে বাংলাদেশ সরকার ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়।
এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০ টি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।
এতে ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ১৪৫ বিলিয়ন টাকা।
ডেল্টা প্ল্যানে ৬ টি লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে – নদী ভাঙ্গন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রন ও নিষ্কাশন।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশের জন্য এ ব্যয় নির্বাহ করা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।
এই পরিকল্পনা অনেক টুকুই সহজ হলে যদি গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের প্রতিশ্রুত অর্থ বাংলাদেশ পায়।
বাংলাদেশ এই অর্থ চাই কারন এটি কোনো অনুদান নয়, এটি ক্ষতিপূরণ।krishan foundation
বাংলাদেশ এই অর্থ চাই কারন পূর্বাশাদ্বীপের মত সে তার আর কোনো জমি সমুদ্রের গভীরে হারাতে চাই না।
শেষে বলতে চাই ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের আর্তনাদ অভিশাপে পরিণত হওয়ার আগেই যেন আমরা মানুষবান্ধব এবং পরিবেশবান্ধব পৃথিবী গড়ে তুলতে সক্ষম হই এবং সকল মানবসমাজ একসাথে পরিবেশের বন্ধু হতে পারি, তবেই হয়তো Eco friendly, sustainability, philanthropy শব্দগুলো সার্থক হবে। সার্থক হবে কবিতার লাইন গুলো
“এ বিশ্বকে শিশুর
বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে
এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।বাংলাদেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here